ভারত-চীন সীমান্ত বিতর্ক: লাদাখ সীমান্তে ভারতের কমান্ডারদের 'পূর্ণ স্বাধীনতা' দেয়া হয়েছে, বলছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: 21/06/2020 06:38:31 pm

গালওয়ান উপত্যকায় চীনের সৈন্যদের সাথে হওয়া সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সৈন্য মারা যাওয়ার পর ভারতের সেনাবাহিনী লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে (এলএসি) নিয়োগপ্রাপ্ত কমান্ডারদের যে কোনো ধরণের 'পদক্ষেপ নেয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা' দিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।

ঐ খবর অনুযায়ী, এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের ওপর অস্ত্র ব্যবহার করায় কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না এবং তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

সেনাবাহিনীর সূত্রকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি এই খবর প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করছে ভারতের সেনাবাহিনী 'রুলস অব এঙ্গেজমেন্ট' বা সংঘাতের নিয়মে পরিবর্তন আনছে।

গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সৈন্যদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পর দেশটির বিরোধী দল প্রশ্ন তুলেছে যে কেন তাদের সৈন্যদের নিরস্ত্র অবস্থায় ঐ অঞ্চলে পাঠানো হলো।

এর জবাবে ভারত সরকার জানিয়েছে যে, সৈন্যদের কাছে অস্ত্র থাকলেও অস্ত্র না ব্যবহার করার শর্তে চীনের সাথে চুক্তি থাকার কারণে তারা সেগুলো ব্যবহার করেনি।

আরো পড়তে পারেন:

ভারতে চীনা পণ্য বয়কট কি আদৌ সম্ভব?

চীন-ভারত সংঘাত: কার শক্তি কতটা, কোন্‌ দেশ কার পক্ষ নেবে

চীন-ভারত সংঘর্ষে পেরেক যুক্ত রড ব্যবহার করা হয়েছে?

ভারত কেন '৬২-র যুদ্ধে চীনের কাছে হেরে গিয়েছিল?

গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সৈন্যদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পর দেশটির বিরোধী দল প্রশ্ন তুলেছে যে কেন তাদের সৈন্যদের নিরস্ত্র অবস্থায় ঐ অঞ্চলে পাঠানো হলো।ছবির কপিরাইটGETTY IMAGES
Image captionগালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সৈন্যদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পর দেশটির বিরোধী দল প্রশ্ন তুলেছে যে কেন তাদের সৈন্যদের নিরস্ত্র অবস্থায় ঐ অঞ্চলে পাঠানো হলো।

ভারতের সীমানার ৮ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থান করছে চীনের সৈন্য

টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গালওয়ান উপত্যকার সবশেষ পরিস্থিতি কী সে সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যাচ্ছে না।

সন্দেহ করা হচ্ছে যে চীনের সেনারা মে মাসের শুরু থেকে সেখানে বহু বাঙ্কার ও নিরাপদ লুকানোর জায়গা তৈরি করে রেখেছে। আর তারা প্যাংগং এলাকায় ৮ কিলোমিটার ব্যাপী একটি অঞ্চলের দখল নিয়েছে।

ভারত প্যাংগংকে নিজেদের সীমানার অন্তর্গত অঞ্চল হিসেবে মনে করে।

ওদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্র টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকাকে জানিয়েছে, ভারতের সেনাবাহিনী পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪'র নিকটবর্তী এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের সেনারাই এলএসি'র দুই পাশে নিজেদের প্রান্তে অবস্থান করছে।

১৫ ও ১৬ই জুন এলএসিতে সংঘাতে ২০ জন ভারতীয় সৈন্য মারা যাওয়ার পর থেকে ঐ অঞ্চলের পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিস্থিতি এতটাই অস্থিতিশীল যে চীন ও ভারতের সৈন্যরা যদি মুখোমুখি অবস্থানও নেয়, তাহলেও আবার সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

১৫-১৬ই জুনের পর থেকে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে রয়েছে।