Thursday, January 24, 2019 10:04 am
Spread the love

ভারতের কিংবদন্তী চিত্র পরিচালক মৃণাল সেনের প্রয়াণে চলচ্চিত্র জগতে আজ শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে এক বন্ধনীতে উচ্চারিত হতো যার নাম, সত্যজিতের মৃত্যুর ছাব্বিশ বছর পর চলে গেলেন সেই মৃণাল সেনও।

তাঁর গুণমুগ্ধ পরিচালক শ্যাম বেনেগাল বিবিসিকে অবশ্য বলছেন, “মৃণালদা কিন্তু কখনওই দ্বিতীয় সত্যজিৎ ছিলেন না। তিনি ছিলেন তার মতো করেই অনন্য!”

তাঁর মৃত্যুতে বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন টুইট করেছেন, ‘এক অমায়িক, অনন্য ও সৃষ্টিশীল সিনেমাটিক মনের বিদায়!’

মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ ছবিতেই যে তিনি জীবনের প্রথম ভয়েস ওভার করেছিলেন, অমিতাভ বচ্চন সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন।

কোনও সন্দেহ নেই যে মৃণাল সেনের প্রয়াণে বাংলা তথা ভারতের চলচ্চিত্র জগতে একটা অবিস্মরণীয় যুগের অবসান হল। ভারতে ‘প্যারালাল’ বা সমান্তরাল সিনেমার জনক ছিলেন তিনি।

মৃণাল সেনের সঙ্গে কথা বরছেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। দেখছেন পরিচালক শ্যাম বেনেগালমৃণাল সেনের সঙ্গে কথা বলছেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। তাকিয়ে পরিচালক শ্যাম বেনেগাল

শ্যাম বেনেগালের কথায়, “সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল ভারতীয় সিনেমার তিন দিকপাল ও কিছুটা সমসাময়িক ঠিকই। কিন্তু তারা একে অন্যের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ঘরানার – আর মৃণালদার কাজ তো তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য!”

সত্যজিৎ রায়কে যেমন সারা দুনিয়া ‘পথের পাঁচালী’র জন্য চেনে, তেমনি শুধুমাত্র ভুবন সোমের জন্যই মানুষ মৃণাল সেনকে মনে রাখবে বলে মি. বেনেগাল বিশ্বাস করেন।

ভুবন সোম, কোরাস, মৃগয়া ও আকালের সন্ধানে-সহ ১৬টি ছবির জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন।

তাঁর অন্যান্য অসামান্য সৃষ্টির মধ্যে আছে খারিজ, কলকাতা ৭১, পুনশ্চ, একদিন প্রতিদিন, পদাতিক প্রভৃতি।

মৃণাল সেন। ১৯৯১ সালেমৃণাল সেন। ১৯৯১ সালে

প্রয়াত পরিচালক পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন। পেয়েছিলেন চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারও।

তাঁর ইচ্ছে অনুযায়ী কোনও অন্তিম যাত্রার আয়োজন করা হবে না বলে জানিয়েছেন তাঁর পারিবারিক চিকিৎসক। তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর ফুল, মালা বা কোথাও দেহ শায়িত রেখে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের বিরোধী ছিলেন মৃণাল সেন।

ফলে মৃণাল সেনের ইচ্ছানুযায়ী তাঁর দেহ আপাতত পিস হাভেনে নিয়ে যাওয়া হবে। শিকাগো থেকে তাঁর একমাত্র ছেলে ফিরলে শেষকৃত্য হবে তাঁর।

১৯২৩ সালের ১৪ মে অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্ম মৃণাল সেনের। হাইস্কুলের পড়াশুনো শেষ করে তিনি কলকাতায় আসেন।

পদার্থবিদ্যা নিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়াশুনো করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

মৃণাল সেনের বিখ্যাত ভুবন সোম ছবির পোস্টারমৃণাল সেনের বিখ্যাত ভুবন সোম ছবির পোস্টার

আজীবন বামপন্থায় বিশ্বাসী মৃণাল সেন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার সাংস্কৃতিক কাজকর্মের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। কিন্তু কখনও পার্টির সদস্য হননি। পরে রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে মৃণাল সেন ভারতের পার্লামেন্টেও গেছেন।

১৯৫৫ সালে ‘রাত ভোর’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনা শুরু করেন মৃণাল। তাঁর পরের ছবি ছিল ‘নীল আকাশের নীচে’।

‘বাইশে শ্রাবণ’-এর মাধ্যমে প্রথম আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান তিনি।

তবে ১৯৬৯-এ মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভুবন সোমে’র মাধ্যমেই জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতির তুঙ্গে পৌঁছন মৃণাল সেন।

তাঁর স্ত্রী গীতা সেন মারা যান গত বছর।


Spread the love

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন