Thursday, January 24, 2019 10:36 am
Spread the love

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তুজা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম বোলিং স্তম্ভ ও একদিনের আন্তর্জাতিকে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।শুধু এতটুকু বলে তার অসাধারণ জীবনের বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এই নামের পরশ পাথরের কারণেই নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ম্যাচের পর ম্যাচ, সিরিজের পর সিরিজ লাল-সবুজের দেশকে জিতিয়ে চলেছেন তিনি। তিনি হয়ে উঠেছেন সবারই নেতা।মাশরাফি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গতির বোলার এবং সমর্থকদের কাছে “নড়াইল এক্সপ্রেস” নামে পরিচিত। তার ডাক নাম ‘কৌশিক’। তিনি একজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার বোলিংয়ের ধরন ডানহাতি মিডিয়াম পেস বোলার। বাংলাদেশ জাতীয় দল ছাড়াও তিনি এশিয়া একাদশের একদিনের আন্তর্জাতিক দলে খেলেছেন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা পেস বলার ও সেরা অধিনায়ক।

পারিবারিক পরিচিতি:

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও ডানহাতি ফাস্ট বোলার মাশরাফি বিন মর্তুজা (কৌশিক) ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইল জেলার আলাদাৎপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা গোলাম মোর্তজা একজন ব্যবসায়ী। মাতা হামিদা মোর্তজা একজন গৃহিণী।দুই ভাইয়ের মধ্যে মাশরাফি বড়।

ছোটবেলা থেকেই তিনি বাঁধাধরা পড়াশোনার পরিবর্তে ফুটবল আর ব্যাডমিন্টন খেলতেই বেশি পছন্দ করতেন, আর মাঝে মধ্যে চিত্রা নদীতে সাঁতার কাটা। তারুণ্যের শুরুতে ক্রিকেটের প্রতি তার আগ্রহ জন্মে, বিশেষত ব্যাটিংয়ে; যদিও এখন বোলার হিসেবেই তিনি বেশি খ্যাত, যেজন্যে তাকে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামেও অভিহিত করা হয়।

বাইকপ্রিয় মর্তুজাকে সবাই খুব হাসিখুশি আর উদারচেতা মানুষ হিসেবেই জানে। প্রায়শঃই তিনি বাইক নিয়ে স্থানীয় ব্রিজের এপার-ওপার চক্কর মেরে আসেন। নিজের শহরে তিনি প্রচণ্ড রকমের জনপ্রিয়।এখানে তাকে “প্রিন্স অব হার্টস” বলা হয়।

মাশরাফির সাথে একই ক্লাসে পড়তো সুমনা হক সুমী। কলেজে থাকতে মাশরাফি রোজ সুমনাদের বাড়ি যেতো নোট আনতে আর এভাবেই একদিন দুজন দুজনের প্রেমে পড়ে গেলো। দুজনের পরিবারের কেউ ই প্রথম দিকে তাদের বিয়েতে মত দেয় নি। কিন্তু পরে অনেক জেদাজেদি এবং মাশরাফির নাহিদ মামার আপ্রাণ চেষ্টাতে ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাশরাফি এবং সুমীর বিয়ে হয়। মাশরাফির সন্তান দুইজন। ১ মেয়ে এবং ১ ছেলে। মেয়ের নাম হুমায়রা এবং ছেলের নাম সাহেল।

শিক্ষাজীবন:

মাশরাফির শিক্ষাজীবন শুরু হয় নড়াইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে তিনি নড়াইল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস, এস, সি পাশ করেন। ২০০৩ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইস, এস, সি পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে লেখাপড়া করেন। তবে ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ততার কারণে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি।

ক্যারিয়ার:

প্রাথমিক ক্যারিয়ার:

মাশরাফি বিন মোর্তাজা আরো দশজন উদীয়মান যুব পেইসম্যানদের নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন। তবে তার কিছু সমস্যাও আছে। তিনি এ্যান্ডি রবার্টস এর অবিভাবকত্বে দৃড় পদক্ষেপে চলেছেন। তিনি আটুট মনোবল, শক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। তার অধিকতর পছন্দের স্টাইলের মাধ্যমেই তিনি আক্রমণাত্বক ও রক্ষনভাগ উভয় ক্ষেত্রে তার পরদার্শিতার প্রমান রাখেন।

তবে মাশরাফি নামে পরিচিত নড়াইলের সেই দুরন্ত কিশোরটি ছোটবেলা থেকে কৌশিক নামেই এলাকার সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি অদ্ভুত এক ভালোবাসা কাজ করতো। এমনও অনেক দিন গেছে যে নাওয়া-খাওয়া ভুলে সারাদিন খেলার মাঠেই পড়ে ছিলেন দুরন্ত সেই কিশোর। এজন্য তাকে অনেকবার পিতা-মাতার বকনিও খেতে হয়েছে। ক্রিকেট খেলার উপর তার আগ্রহ ছিল প্রবল।

মর্তুজা বাংলাদেশের সফলতম পেস বোলারদের একজন। আক্রমণাত্মক, গতিময় বোলিং দিয়ে অনূর্ধ-১৯ দলে থাকতেই তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাবেক ফাস্ট বোলার অ্যান্ডি রবার্টসের নজর কেড়েছিলেন, যিনি কিনা তখন দলটির অস্থায়ী বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন। রবার্টসের পরামর্শে মাশরাফিকে বাংলাদেশ এ-দলে নেয়া হয়।

বাংলাদেশ এ-দলের হয়ে একটিমাত্র ম্যাচ খেলেই মাশরাফি জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। ৮ নভেম্বর, ২০০১ এ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে।  একই ম্যাচে খালেদ মাহমুদেরও অভিষেক হয়। বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচটি অমীমাংসিত থেকে যায়। মাশরাফি অবশ্য অভিষেকেই তার জাত চিনিয়ে দেন ১০৬ রানে ৪টি উইকেট নিয়ে। গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার ছিলেন তার প্রথম শিকার। মজার ব্যাপার হল, মাশরাফির প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচও ছিল এটি। তিনি এই বিরল কৃতিত্বের অধিকারী ৩১তম খেলোয়াড় এবং ১৮৯৯ সালের পর তৃতীয়। একই বছর ২৩শে নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয় ফাহিম মুনতাসির ও তুষার ইমরানের সাথে। অভিষেক ম্যাচে মোহাম্মদ শরীফের সাথে বোলিং ওপেন করে তিনি ৮ ওভার ২ বলে ২৬ রান দিয়ে বাগিয়ে নেন ২টি উইকেট।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত তৃতীয় টেস্ট খেলার সময় তিনি হাঁটুতে আঘাত পান। এর ফলে তিনি প্রায় দু’বছর ক্রিকেটের বাইরে থাকতে বাধ্য হন। ইংল্যন্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট খেলায় তিনি সফলতা পান। ৬০ রানে ৪ উইকেট নেয়ার পর আবার তিনি হাঁটুতে আঘাত পান। এযাত্রায় তিনি প্রায় বছরখানেক মাঠের বাইরে থাকতে বাধ্য হন।

২০০৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে খেলার সময় রাহুল দ্রাবিড়কে অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের একটি বলে আউট করে তিনি স্বরুপে ফেরার ঘোষণা দেন। সেই সিরিজে তিনি ধারাবাহিকভাবে বোলিং করেন এবং তেন্ডুলকর ও গাঙ্গুলীকে আউট করার সুযোগ তৈরি করেন। তবে ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় তিনি উইকেট পাননি। এই সিরিজের একটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে অবিস্মরণীয় জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি।

২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তিনি ভালো বল করেন। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে তার গড় ছিল সবচেয়ে ভাল। কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নাটকীয় জয়ে তিনি অবদান রাখেন। তিনি মারকুটে ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে শূন্য রানে আউট করেন এবং দশ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দেন।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে ভালো পেস বোলারের ঘাটতি ছিল। বাংলাদেশে মোহাম্মদ রফিকের মত আন্তর্জাতিক মানের স্পিনার থাকলেও উল্লেখযোগ্য কোন পেস বোলার ছিল না। মাশরাফি বাংলাদেশের সেই শূন্যস্থান পূরণ করেন

২০০৬ ক্রিকেট পঞ্জিকাবর্ষে মাশরাফি ছিলেন একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় বিশ্বের সর্বাধিক উইকেট শিকারী। তিনি এসময় ৪৯টি উইকেট নিয়েছেন।

২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয়ে মর্তুজা ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ৩৮ রানে ৪ উইকেট দখল করেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি খেলায় নিউজিল্যান্ডের সাথে বিজয়েও মাশরাফির ভূমিকা রয়েছে।

মাশরাফি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গতির বোলার এবং সমর্থকদের কাছে “নড়াইল এক্সপ্রেস” নামে পরিচিত।

মাশরাফি একজন মারকুটে ব্যাটসম্যান। ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় তিনি পরপর চার বলে ছক্কা পেটান। সেই ওভার থেকে তিনি ২৬ রান সংগ্রহ করেন যা কোন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের জন্য এক ওভারে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

১৬ বছরের ক্যারিয়ারে ১১ বার চোটের কারণে দলের বাইরে যেতে হয়েছে মাশরাফিকে। চোটই তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল ২০১১ সালের দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ। ২০১৬ সালের রকেট বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় খেলায় ২ উইকেট সংগ্রহের মাধ্যমে মোট ২১৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারী হিসাবে তুলে ধরেন নিজেকে।

২০১৭ সালে ৬ই এপ্রিল বাংলাদেশ ব শ্রীলংকা সিরিজের শেষ টি২০ দিয়ে উনি আন্তর্জাতিক টি২০ খেলা থেকে অবসর নেন। মাঠে ম্যাশ নামে পরিচিত মাশরাফি বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার যে অধিনায়ক থাকা অবস্থায় অবসর নেয়।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ার:

আওয়ামী সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর মাশরাফি নড়াইল-২ আসনের জন্য আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন। এই ঘটনা দেশের জনসাধারণের মধ্যে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ তার এই রাজনৈতিক অভিলাষের সমালোচনা করলেও, অনেকেই তার এই সিধান্তকে সমর্থন দেয়। কোন দেশের যে কোন খেলার জাতীয় দলের অধিনায়ক থাকাবস্থায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ঘটনা বিশ্বে প্রথম। যদিও পেশাদার খেলা চালিয়ে যাওয়া অবস্থাতেই সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার উদাহরণ বিশ্বের ক্রীড়াবিদদের মধ্যে নতুন নয়। ক্রিকেটারদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়সুরিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার আগেই শ্রীলঙ্কার ২০১০ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং ঐ নির্বাচনে বিজয়ীও হন।

ক্যারিয়ার মাইলফলকঃ

টেস্টঃ

অভিষেক: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ২০০১

একদিনের আন্তর্জাতিকঃ

অভিষেক: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, এমএ আজিজ স্টেডিয়াম, ২০০১

২০০৬ সালে নাইরোবিতেকেনিয়ার বিরুদ্ধে মাশরাফি ২৬ রানে ৬ উইকেট নেন, যা তার সেরা সাফল্য।

বিপিএলের ৫ আসরের চার বারই তিনি বিজয়ী ক্যাপ্টেন হয়েছেন।

অধিনায়কের দায়িত্বঃ

২০০৯ সালের শুরুতে মাশরাফি অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের সহকারী ছিলেন। পরবর্তীতে ওই বছরেরই জুন মাসে তিনি মোহাম্মদ আশরাফুলের স্থলাভিষিক্ত হন এবং তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান সাকিব আল হাসান।

কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে নিজের প্রথম ম্যাচেই তিনি হাঁটুতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ঐ খেলায় বাংলাদেশ জয়লাভ করে কিন্তু মাশরাফি এই চোটের কারনে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠের বাইরে ছিলেন।

উক্ত ম্যাচসহ পরবর্তীকালে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করেন সাকিব আল হাসান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের সাথে হোম সিরিজে তিনি পুনরায় অধিনায়কত্ব পান। তবে এ বার তিনি শুধু একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য দায়িত্ব পান এবং এবারও তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান সাকিব আল হাসান। ২০১৫সালের বিশ্বকাপেও তিনি বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রিন্স অব হার্টস:

দেশের কৃতি এই ক্রিকেটারকে সবাই বাইক প্রিয় এবং হাসিখুশি ও উদারচেতা মানুষ হিসেবেই জানে। নিজের শহরে তিনি প্রচণ্ড রকমের জনপ্রিয়। এখানে তাকে ‘প্রিন্স অব হার্টস’ বলা হয়।

পছন্দ:

প্রিয় ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার। প্রিয় ফুল গোলাপ।

মাশরাফি একজনই:

মাশরাফি বিন মর্তুজাকে বাংলাদেশে আজীবন মনে রাখবে তার ক্যাপ্টেন্সির জন্য। শুধু নেতৃত্বই নয়, মাশরাফিকে মনে রাখতে হবে তার পারফরম্যান্সেই জন্যেই। যদিও নেতৃত্ব ও অনন্য গুনাবলির জন্য মাশরাফির কিছু বিষয় সবসময় ই আড়ালে থেকে গেছে।

কৃতিত্ব:

১. প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ওডিআই ক্রিকেটে ২৫০ উইকেট শিকার করেছেন মাশরাফি ১৯৪ ম্যাচে।

২. মাশরাফির আগে মাত্র ১১ জন পেসার ২০০তম ম্যাচ খেলার আগেই ২৫০ উইকেটের দেখা পেয়েছেন, যাদের মধ্যে উপমহাদেশের রয়েছে মাত্র ৫জন।

৩. এই শতকে অভিষেক হওয়া পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় মাশরাফি আছেন ৫ম স্থানে।

৪. সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি পেসারদের লিস্টে মাশরাফির অবস্থান ১৭, সেরা ১০-এ যেতে দরকার আর ৩১টি উইকেটের।

৫. উপমহাদেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি পেসারদের লিস্টে মাশরাফির অবস্থান ১০-এ।

৬. বাংলাদেশের জয় পাওয়া ম্যাচে মাশরাফির উইকেট সংখ্যা, বাংলাদেশের ইতিহাসে যা সর্বোচ্চও বটে। মাত্র ৮২ ম্যাচে এসেছে এই ১৪২ উইকেট!

৭. ওডিআই ক্রিকেটের ইতিহাসে টেইল এন্ডে ব্যাট করতে নেমে ১৫০০ রান করা মাত্র ৫ ব্যাটসম্যানের একজন মাশরাফি।

৮. বাংলাদেশের জয় পাওয়া ম্যাচে মাশরাফির ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ২০.৫ গড় এবং ১টি ফিফটিও রয়েছে এই ম্যাচগুলোতে।

৯. ওডিআইতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ক্যাচ ধরার রেকর্ডটিও মাশরাফির, ৫৭ উইকেট নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছেন তিনি (উইকেট কিপার বাদে)।

মাশরাফিকে নিয়ে লেখা বইঃ

বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা মাশরাফি বিন মর্তুজার জীবনী গ্রন্থের লেখক দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেছেন মাশরাফি নিজেই উত্থান-পতনের এক রোমাঞ্চকর গল্প।

তিনি বলেন, জীবনে কিছু অর্জনের জন্য যারা লড়াই করে ক্লান্ত বোধ করছেন, মাশরাফির কাহিনী তাদের সাহস যোগাবে।

কেন তিনি মাশরাফির জীবন কাহিনী লিখতে উৎসাহিত হলেন – এই প্রশ্নে লেখক-সাংবাদিক দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, কোনও মানুষের এরকম নাটকীয় রোমাঞ্চর গল্প বিরল।

“আপনি অনেকের জীবনে সংগ্রাম খুঁজে পাবেন, কিন্তু বার বার লড়াই এবং সংগ্রাম করে শিখরে ওঠার গল্প খুব কম … একটা সময় গেছে যখন মাশরাফি ক্রিকেট থেকেই ছিটকে গিয়েছিল, কিন্তু সে ফিরে এসেছে এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ভিন্ন এক মাত্রায় নিয়ে গেছে … এই জীবন উত্থান পতনের এক রোমাঞ্চকর গল্প।”

তিনি বলেন, যারা জীবনে কিছু অর্জনের জন্য লড়াই করে ক্লান্ত হচ্ছেন, মাশরাফির জীবন কাহিনী তাদের উজ্জীবিত করবে।

মাশরাফি সম্পর্কে কি এমন তিনি তার বইতে লিখেছেন, যা মানুষ জানতো না — এই প্রশ্নে দেবব্রত মুখোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “মাশরাফি একটি খোলা বইয়ের মত।”

“অজানা তথ্য খুব কম, মাশরাফি দিনের পর দিন দেশ এবং বিদেশের মিডিয়ায় খবর হয়েছেন, তার ব্যক্তি জীবনও বার বার খবরের পাতায় এসেছে, সুতরাং অজানা অধ্যায় তুলে আনা কঠিন ছিল।”

তবে তিনি বলেন, এর পরেও ব্যক্তি জীবন ও খেলোয়াড়ি জীবনের অনেক অজানা তথ্য তার বইতে রয়েছে।

প্রায় তিন বছর ধরে বইটি লিখেছেন ঢাকার এই ক্রীড়া সাংবাদিক।

 দেব্রবত বলেন, এই তিন বছরে মাশরাফির জন্মস্থান নড়াইলে এবং গ্রামের বাড়িতে পাঁচ ছয়বার গেছেন লেখক। ঢাকার বাড়িতে গেছেন নিয়মিত।

“মাশরাফি, তার পরিবার এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলের সবাই অকুণ্ঠ সহযোগিতা করেছেন


Spread the love

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন