Monday, October 21, 2019 3:46 pm
Spread the love

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মালিবাগে পুলিশের একটি গাড়ির কাছে গতরাতের বিস্ফোরণের ‘দায় স্বীকার’ করেছে তাকফিরি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস। ওই বিস্ফোরণে একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন রিকশাচালক আহত হয়েছেন।

আমেরিকাভিত্তিক জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আইএস ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। এছাড়া, সাইট ইনটেল গ্রুপের অ্যাকাউন্ট থেকেও এ দায় স্বীকারের কথা জানিয়ে টুইট করা হয়েছে।

ককটেলটি শক্তিশালী ছিল: ডিএমপি কমিশনার

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে রোববার রাতে যে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটি সাধারণ ককটেল থেকে শক্তিশালী ছিল।

ককটেল বিস্ফোরণে আহত রিকশাচালক লাল মিয়া দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় সোমবার সাড়ে ১২টার দিকে ডিএমপি কমিশনার এ কথা জানান।

ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে আহত রিকশাচালক লাল মিয়া মাথার স্কাব ভেঙে ব্রেইনে চাপ লেগেছে। গতরাতে তার মাথার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এখন সবকিছু নরমাল আছে। তবে সে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। তার চিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার সবকিছুই করা হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, কাউন্টার টেরোরিজম, ডিভি, সিআইডি ঘটনাস্থলে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। কারা কী উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এটি কী ধরনের বিস্ফোরক তা কাউন্টার টেরোরিজমের বোম ডিসপোজাল ইউনিট খতিয়ে দেখছে। এটি পুলিশকে টার্গেট করা হয়েছে নাকি অন্য কোনো লক্ষে করা হয়েছে তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ককটেলটি পুলিশ ভ্যানে পেছনে আগে থেকেই রাখা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জনমনে ভীতি, নৈরাজ্য, অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্য কোনো গোষ্ঠী এটি করতে পারে। জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা এই মুহূর্তে বলা যাবে না।

আহত রিকশাচালক লাল মিয়া

এদিকে, মালিবাগের ঘটনায় আহত নারী পুলিশ সদস্য রাশেদা খাতুনকে গতকাল রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডিএমপি কমিশনার তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়ে ঢামেকে আসেন আহত রিকশাচালকের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে।

ট্রাফিক পুলিশের পূর্ব বিভাগের (সবুজবাগ) সার্জেন্ট এনামুল হক জানান, মালিবাগ মোড়ে দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশের গাড়ির পাশে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়। এ সময় আশপাশের দালানের গ্লাসও ভেঙে যায়। এসময় পাশে থাকা এএসআই রাশেদা আক্তার বাবলি (২৮) ও রিকশাচালক লাল মিয়া (৫০) আহত হন। রাশেদার বাঁ পায়ে ও রিকশাচালকের মাথায় আঘাত লেগেছে।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল ঢাকার গুলিস্তানে ককটেল বিস্ফোরণে তিন পুলিশের আহত হওয়ার ঘটনাটির দায়ও স্বীকার করেছিল আইএস


Spread the love

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন