Wednesday, November 13, 2019 9:50 pm
Spread the love

অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানের কন্যা খাতিজা কেন বোরখা পরেছেন, তা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ‘ট্রলড’ হওয়ার পরে মেয়ের পাশেই দাঁড়িয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে কন্যা খাতিজার বোরখা পরাকে সমর্থন করে তিনি টুইট করেছেন, ‘ফ্রিডম টু চুজ’, অর্থাৎ পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা বলে।

স্ত্রী আর দুই মেয়ের সঙ্গে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানির ছবিটি টুইটারে প্রকাশ করে মি. রহমান লিখেছেন, “আমার পরিবারের তিন অমূল্য নারী খাতিজা, রাহিমা এবং সায়রার সঙ্গে নীতা আম্বানিজি।”

তার নিচেই হ্যাশট্যাগ করেছেন ‘ফ্রিডমটুচুজ’।

ওই ছবিটিতে স্ত্রী এবং এক কন্যা রাহিমার মুখ দেখা গেলেও আরেক কন্যা খাতিজা কালো রঙের একটি বোরখা পরে রয়েছেন। তার মুখও ঢাকা রয়েছে ছবিটিতে।

ক’দিন আগে থেকেই সামাজিক মাধ্যমে কন্যা খাতিজার বোরখা পরা নিয়ে যে বিতর্ক চলছিল, মি. রহমানের নতুন টুইটের পরে তা আরও ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

একদল বোরখা পরা নিয়ে তির্যক মন্তব্য করছেন, অন্য দল মি. রহমানের পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন করেছেন পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা প্রত্যেকেরই রয়েছে বলে।

”মহাভারত” নামের এক টুইট ব্যবহারকারী মি. রহমানের টুইটের জবাবে লিখেছেন, “প্রথমত খাতিজা-জীর নিশ্চয়ই ডিনার করতে বেশ অসুবিধা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, খাতিজা-জী তার বদলে অন্য যে কাউকেই পাঠিয়ে দিতে পারতেন, কেউ চিনতে পারত না।”

এই টুইটে ব্যঙ্গটা স্পষ্ট।

বিতর্কের কেন্দ্রে : বাঁ থেকে দুই মেয়ে খাতিজা ও রহিমা, নীতা আম্বানি, এ আর রহমানের স্ত্রী সায়রাবিতর্কের কেন্দ্রে : বাঁ থেকে দুই মেয়ে খাতিজা ও রহিমা, নীতা আম্বানি, এ আর রহমানের স্ত্রী সায়রা

তবে ”মহাভারত”কে জবাবও দিয়েছেন শ্রীরাম ভি নামে আরেক টুইট ব্যবহারকারী।

তিনি লিখছেন, “নিম্ন রুচির পরিচয় দিলেন ভাই। রাজপুত নারীরাও তো মাথায় ঘোমটা দিয়ে থাকে, তারাও নিজেদের মুখ দেখান না কাউকে। হিন্দু ধর্ম সব ধর্মকে সম্মান করে। সেজন্যই এখানে সব ধর্মের সহাবস্থান রয়েছে।”

এ আর রহমানের টুইটটি এখনও পর্যন্ত হাজার মানুষ লাইক করেছেন, রিটুইট করেছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ আর মন্তব্য করেছেন দুই হাজার দুশো ব্যক্তি।

সব মন্তব্যগুলিই যে শালীন, তা নয়।

টুইটারে এ আর রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একজনের মন্তব্যটুইটারে এ আর রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একজনের মন্তব্য

হিন্দু এবং মুসলমান নামধারী টুইট ব্যবহারকারীরা একে অন্যের ধর্ম নিয়ে যেমন কটু কথা বলেছেন, তেমনই এই বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালককে ব্যক্তিগত আক্রমণও করেছেন।

যেমন শঙ্কর নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, “সঠিক কথা। কিন্তু এ আর স্যার, কোনও বিরূপ মন্তব্যে আপনার কাছ থেকে জবাব পাওয়া খুব খুব খুবই বিরল। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আপনি খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কেন? ধর্মের প্রসঙ্গ রয়েছে বলে?”

নভীতা শ্রীকান্ত নামের এক নারী লিখেছেন, “অভিনন্দন একজন গর্বিত পিতাকে। আপনার মেয়েদের কাছে আপনি হিরো, কারণ আপনি তাদের ‘ফ্রিডম টু চুজ’ দিয়েছেন।”

“আপনার মতামত ইসলামের শিক্ষাই দেখায়, যেখানে নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখানোর আর তাদের অধিকারের কথা শেখায়।”

“এতে অন্য কারও দু:খ পাওয়ার কী আছে? প্রত্যেকেরই স্বাধীনতা রয়েছে। ও তো আর বাচ্চা নয়। তার থেকেও বড় কথা, মি. রহমান তো তার অন্য কন্যার ছবি দিয়েছেন যে হিজাব পরে নি। এটাই প্রমাণ করে যে তিনি মেয়েদের নিশ্চয়ই জোর করেন নি পোশাকের ব্যাপারে,” লিখেছেন নুজহাত ফিরদোস নামের আরেকজন টুইট ব্যবহারকারী।

এ আর রহমানের কন্যা খাতিজার একটি আনভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়েছে যে মি. রহমান তাকে হিজাব পরতে বাধ্য করেন নি।


Spread the love

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন