Monday, September 23, 2019 10:02 pm
Spread the love

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব ও বীমাবিদ, বাংলাদেশ জাতীয় জোট-বিএনএ-এর কো-চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান,সাবেক এমপি, হুইপ ও মন্ত্রী এম নাজিমউদ্দীন আল আজাদ যশোর জেলার সদর থানার বসুন্দিয়া ঘুণী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।

তাঁর পিতা আলহাজ¦ মো: আলী শিক্ষক ও সমাজসেবক ছিলেন । মায়ের নাম খাদিজা বেগম ।

শিক্ষা জীবন :

এম নাজিমউদ্দীন আল আজাদ ১৯৬৩ সালে নাভারণ বুরুজবাগান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৬৫ সালে এমএম কলেজ থেকে এইচ এসসি ও ১৯৬৭ সালে বিএ পাশ করেন ।

রাজনৈতিক জীবন :
ছাত্রজীবনে তিনি রাজনীতিতে আসেন ।

১১ দফা পন্থী ছাত্রনেতা ও রাজনীতিবিদ মাহবুবুল হক দোলন এর নেতৃত্বে ছাত্র ফেডারেশন এর জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতা ।

১৯৬২ সালে জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য হন ।

জাতয়িতাবাদী দল বিএপির কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, যশোর জেলা যুগ্ম আহবায়ক এবং কেন্দ্রীয় কার্য্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯৭৯-১৯৮২)।

১৯৮৪ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ( খুলনা বিভাগ) নির্বাচিত হন ।

পওে জাতয়ি পার্টির কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক থাকাকালীন ১৯৯০ সালে দল ত্যাগ করেন ।

১৯৯৬ সালে জাতীয়তাবাদী দলে প্রত্যাবর্তন করেন এবং কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে ২০০৬ সাল পযৃন্ত দায়িত্ব পালন করেন ।

২০০৬ সালে অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কর্নেল অলীর নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্বে আসেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ।

২০০৭ সালের ৪ জানুয়ারী রাজনৈতিক মতাদর্শগত কারণে বিরোধ দেখা দিলে ঢাকাস্থ ইন্ঞিনিয়ারিং ইনষ্টি্িটউট মিলনায়তনে এক তলবী সভায় এলডিপি থেকে পদত্যাগ করে বিএলডিপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল এ্যালায়েন্স (বিএনএ) এর কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যার চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ।

শিক্ষকতা পেশায়:
১৯৬৭ সালে বসুন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ।

১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত পদ্মবিলা সিনিয়র মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন ।

সাংবাদিকতা পেশায়:
৬০ এর দশকে প্রকাশিত অধূনালুপ্ত ‘যুগের ডাক’ এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন ।

দৈনিক বর্তমান পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও সংগঠক হিসেবেও তিনি বিশেষ অবদান রাখেন ।

তৎকালে সাংবাদিকদের জাতীয় সংগঠন মফশ্বল সাংবাদিক সমিতির যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন , সভাপতি ছিলেন এ্যাড. শাহাদৎ হোসেন ফারাজী ।

এশিয়ান জার্নালিষ্ট হিউম্যান রাইটস এ- কালচারাল ফাউণ্ডেশন (এজাহিকাফ) এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ।

বর্তমানে তিনি অনলাইন টিভি বাংলা টিভি ৭১.কম এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ।

পেশাদার বীমাবিদ:

তিনি একজন পেশাদার বীমাবিদ ।

পেশাদার বীমাবিদ হিসেবে সাধারণ বীমার বিকাশে তিনি গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে চলেছেন ।

১৯৬৮ সালে মুসলিম ইন্সুরেন্স কোম্পানীর যশোর জেলা শাখা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন ।

১৯৭২ সাল পর্যন্ত ল মুসলিম ইন্সুরেন্স কোম্পানীর দায়িত্ব পালন করেন ।

পরবর্তীতে ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত গ্রীণ ডেল্টা ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর যশোর শাখার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।

১৯৯২ সাল থেকে সেন্ট্রাল ইন্সুরেন্স কোম্পানীর প্রধান সমন্বয়কারী, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন ।

সিটি সেন্ট্রাল ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ক্রিষ্টাল ইন্সুরেন্স কোম্পানী লি: উপদেষ্টা , পিপলস ইন্সুরেন্স কোম্পানী লি: এর কনসালট্যান্ট, পাইওনিয়ার ইন্সুরেন্স কোম্পানী লি: এর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।

বর্তমানে তিনি ফেডারেল ইন্সুরেন্স কোম্পানীর কনসালট্যান্ট হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন ।

তিনি খবরের অন্তরালে নামক সাপ্তাহিক পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ।

স্থানীয় নির্বাচন :
১৯৭৭ সালে বসুন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন ।

এসময় তিনি যশোর জেলা ইউনিয়ন পরিষদ আ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ।

সভাপতি ছিলেন যশোর সদর দেয়াড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম পাহলোয়ান ।

 

সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীত্ব অর্জন:

১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে যশোর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ।

১৯৮০ সালে সংসদে হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পারন করেন ।

১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টিও মনোনয়নে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ।

১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ।

পরবর্তীতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রণালয়ের পুর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে পূর্ণ ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন ।

১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র, ১৯৯৬ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন ।

সেমিনার সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ :

১৯৮৯ সালে বাগদাদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সুপ্রীম কাউন্সিল কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসাইন ।

এবছর জেদ্দায় অনুষ্ঠিত চতুর্থ ইসলামিক কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিতিত্ব করেন, যেখানে প্রতিনিধিতিত্ব করেন সৌদি বাদশাহ পাহাদ বিন আব্দুল আজিজ ।

এবছরই সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্ভাচেভের আমন্ত্রণে মস্কোতে অনুষ্ঠিত মুসলিম রাষ্ট্রসমুহের ধর্মমন্ত্রীদেও সম্মেলনে প্রতিনিধিতিত্ব করেন,যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কশিশনের চেয়ারম্যান ড. এমএ বারী যোগদান, অধাপক মাওলানা ফরিদউদ্দীন আফতাব অংশগ্রহণ করেছিলেন ।

এসময় কাজান কুফা,আস্ত্রাখান, ভলগা রিজিয়ন,তাতার অটোনোমাস রিপাবলিকে বক্তব্য রাখেন ।

১৯৯৫ সালে ভারতে ইসলাম ধর্মীয় সম্মেলনে কলকাতার গ্রাণ্ড আজাদ ময়দানে যোগদান করেন এবং একই ধরণের সম্মেলনে ভারতে পরপর ৫ বার যোগদান করেন ।

তিনি ১৯৭৮ সালে স্থানীয় সরকার ইউনিয়ণ পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে থাইল্যাণ্ড, মালযেশিয়া, সিঙ্গাপোর ভ্রমণ করেন ।

সামাজীক কর্মকাণ্ড:

পেশাগত কাজের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সমাজ কল্যাণমুলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন কওর চলেছেন ।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ।

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন ।

বাঘারপাড়া কলেজ ও নওয়াপাড়া কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ।

বাঘারপাড়া ডিগ্রী কলেজ ও পদ্মবিলা সিনিয়র মাদ্রাসার, ঘুনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জংগলবাধাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়,বাঘারপাড়া মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চাড়াভিটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শহীদ সিরাজউদ্দীন কলেজ, উন্নয়নে সহযোগীতা করেন ।

যশোর ইনষ্টিটিউটের দাতা সদস্য।

এমপি ক্লাবের আজীবন সদস্য ।

লাইন্স ক্লাব যশোরের সহসভাপতি ।

তিনি যশোর আর্টস কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য ।

অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া , সিদ্দিপাশা, শুভরাঢ়ায় সেচ পানি উন্নয়নে, বন্যা নিয়ন্ত্রণে, অনাবাদী জমি আবাদযোগ্য করার জন্য সিঙ্গিয়া লেবুগাতী স্লুইচগেট বাধ নির্মাণ প্রজেক্ট বাস্তবায়নে ভুমিকা পালন করেন ।

ধলগ্রাম বড়খাল পুন:খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং স্লুইসগেট নির্মাণ করেন ।

নওয়াপাড়ায় বেতার ষ্টেশন তৈরিতে ভুমিকা রাখেন ।

নওয়াপাড়া জেজে আই মিল ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট, নওয়াপাড়া টেলিফোন এক্সচেন্জ ভবন নির্মাণে ভুমিকা রাখেন ।

বসুন্দিয়াব্রিজ ওখাজুরা ব্রিজ নির্মানে ভুমিকা ।

১৮ টি ইউনিয়নে তিনি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কেয়ারের মাধ্যমে রাস্তা কালভার্ট নির্মানে সহয়োগিতা করেন ।

পারিবারিক জীবন :

তার স্ত্রী বেগম ফিরোজা আজাদ পারিবারিক জীবনে তিনি ৩ মেয়ে ১ ছেলের জনক ।

ভ্রমণ:

ইরাক , সৌদি আরব, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, থাইল্যা-, মালযেশিয়া, সিঙ্গাপোর ভ্রমণ করেন । এছাড়া তিনি আরো অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন ।


Spread the love

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন