Monday, September 23, 2019 10:35 pm
Spread the love

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য শতকরা ৮০ ভাগ প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২০ ভাগ সম্পন্ন করা হবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর।

গতকাল (শনিবার) সকালে চট্টগ্রামে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, “আমরা আশা করছি  এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে।”

তবে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন নতুন করে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নেবে না বলেও জানিয়েছেন হেলাল উদ্দিন আহমেদ।

মাঠ দখলে রাখবে ১৪ দল

ওদিকে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগেই তারা মাঠ দখলে রাখবে; তারাই মাঠ গরম করবে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে ১৪ দলের কর্মীসভা থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে ১৪ দলের উদ্যোগে আগামী ৯ অক্টোবর রাজশাহী, ১০ অক্টোবর নাটোর ও ১৩ অক্টোবর খুলনায় জনসভা করা হবে।

সরকারি জোটের কর্মীসভায় নেতারা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে ড. কামাল নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে। নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করলে তা প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

 ‘আবারও একতরফা নির্বাচন হলে গণতন্ত্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে’

তবে, আবারও একতরফা নির্বাচন হলে গণতন্ত্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যের অন্যতম উদ্যাক্তা সাবেক প্রেসিডেন্ট বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে  ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, “সম্প্রতি দেশের পাঁচটি সিটিতে যে রকম “ছল চাতুরির নির্বাচন” হয়েছে জাতীয়  নির্বাচন এরকম  হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র চিরকালের জন্য নির্বাসিত হয়ে যাবে। তাই এবারে সংগ্রাম হবে বাংলাদেশের অধিকারের সংগ্রাম। এজন্যই আজকে এই প্রশ্নে আমরা অটল, একমত। যারাই গণতন্ত্রের স্বপক্ষে শক্তি, তাদেরকে জেগে উঠতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে এবং বলতে হবে ওই সহই ধরণের কৌশলের নির্বাচন আমরা মানব না।”

মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল চলছে

ওদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল চলছে।   চলতি মাসেই ২২ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া, এ মাসেই ৪১ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সম্প্রতি ১২ জেলায় পুলিশ সুপার পদে রদবদল করা হয়।

এ প্রসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব সা’দাত হোসেন বলেছেন, দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচন হলে স্থানীয় প্রশাসন ক্ষমতাসীন দলকে সমর্থন করেন। এই ক্ষেত্রে শতভাগ লেভেল প্লেয়েরিং ফিল্ড থাকে না। ভোটে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের একটা বড় ভূমিকা থাকে। এই জন্য সরকার এরকম সময় রদবদলের ব্যাপারে বিশেষ  উৎসাহ নেয়।

তবে, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনপ্রশাসনের জন্য জনগণের স্বার্থে যেটা প্রয়োজন, সেটা করা হয়। এর ব্যতিক্রম কোন কিছু হয় না। আসন্ন নির্বাচনের আগে জেলা প্রশাসকসহ এসব পদে আরও রদবদলের সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।


Spread the love

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন